এই লাল নীল বাত্তির বোবা শহরে, সারাদিনের জোগালির পরে মধ্যবিত্ত বাড়ি ফেরায়, কখনো কখনো এই অভিশাপ বৃস্টি আশির্বাদ হয়ে ধরা দেয়। কাউকে জড়িয়ে ধরার লোভী সুযোগ করে দেয় ছাতা সামলানোর ছুতো। দানবীয় অন্ধকারে পিলে চমকানো হাইড্রোলিক হর্ন, কিংবা শহুরে মেঠোপথের চড়াই উতরাই, এক লেনের ভালোবাসায় তুচ্ছো হয়ে যায়।
বৃস্টির ছাটের আড়ালের নামে ময়লা পলিথিনের হুড, ক্লাস কামাই দেওয়া সোডিয়ামের বাতির কালো, খানা খন্দের গা ঘিন ঘিনে হ্রদ, উপচে পড়া দু পেয়ে নাগরিক বোঝাই বাসে, হেলপারের অসভ্য বাতচিত, ফ্লাইওভারে দশর্ক শ্রেনীর হায়েনাদের কনুই, থেমে থাকা এই শহরের কালো ধোয়া, সারাদিনের ক্লান্তি, পিপাসা, চায়ের নামে ঠান্ডা ধোয়া উঠা শরবত, বাসি বেনসন, উস্টা খাওয়া খুলে আসা মলিন শুকতালি, সবই যেনো বড় মধুর লাগে। চিরচেনা, অনেক অনেক আপন।
সব কূল ছাপিয়ে, কোলাহলের কুয়াশা ভেদ করে, বিলবোর্ড, সাইনবোর্ডে সয়লাব হয় কারো কারো মুখ, অক্ষরে অক্ষরে, বর্নমালায়, আকাবুকি আর কাটাকুটি হয়ে যায় মান অভিমান, আধকপালি, প্রিয় মুখ, প্রিয় সুখ। এক পাগলীর প্রেমে, হন্য হয়ে ফেরে কেউ কেউ।
তোমাদের এই নগরে।